Description:৷৷ পূর্বকথা ৷৷'কাশীরাম দাস'- '-এ নামে পরিচিত এই মানুষটির জীবনের আদ্যোপান্ত কথা এ বাংলার জনমানুষের কাছে তেমন করে প্রচার পায়নি। তাঁর জন্মস্থান – কর্মস্থান কোথায় ছিল—বিষয়টা তেমন স্পষ্ট নয়। বাংলা ভাষা-সাহিত্যের বিশেষজ্ঞদের সবিশেষ বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা-সাপেক্ষে জানা গেছে কাশীরাম দাস-এর কালজয়ী সাহিত্যকীর্তি বাংলা ভাষায় লেখা মহাভারতের রচনাকাল। তবে তা নির্দিষ্ট সন-তারিখের মাত্রান্বিতে নয়। আর এই বিশেষজ্ঞজনেরা যেমন তেমনই সাধারণ পাঠকজন কাশীদাসী মহাভারত-এর পঠন-পাঠনকালে জেনেছেন কাশীদাস-এর কয়েকজন বংশপুরুষের নাম। জেনেছেন তাঁর জন্মস্থানের নামও। তবে সেসবের উল্লেখ ঘটেছে কাশীদাসী মহাভারতের কিছু শ্লোক তথা ভণিতা অংশে। সেসবই সূত্র তথা উৎস।এটাই কথা যে—এ সব সূত্র সমন্বিত করে একজন ব্যক্তিমানুষের সমগ্র জীবনের কাহিনি জানা যায় না। আর তা জানা যায়ও নি। তবে এ কথাও সত্য যে—যা জানা গেছে—যতটুকু জানা তার সংরক্ষণ প্রয়োজন। প্রয়োজন তার প্রচারকাজের।এখনকার জনমানুষদের অনেকেই পড়েন না কাশীদাসী মহাভারত। এক কালে এই বাংলার ঘরে ঘরে থাকত একখানা কাশীদাসী মহাভারত। পাঠপর্ব চলত প্রার নিয়মিত। আর পাঠপর্বের শেষে সেটি রাখা হত এক শুদ্ধ পবিত্র স্থানে। কেউ কেউ গ্রন্থটি রাখতেন তাঁর আরাধ্য দেববিগ্রহের সিংহাসনে। তবে এ সবের মধ্যে দিয়ে কাশীরাম দাসের ব্যক্তিগত জীবনকথা জানা যায়নি। জানার চেষ্টায় যুগবিশিষ্ট ভাষাবিদ্-সাহিত্য ইতিহাসবিদরা অবশ্যই কমবেশি তৎপর হয়েছেন। তবে তা তাঁর জীবনকথা কি? জীবনকথার চেয়েও অনেক অনেক বেশি তৎপরতা দেখা গেছে কাশীদাসী মহাভারতের সাহিত্যমূল্য যাচাই করে জেনেবুঝে নেওয়ার কাজে।বাংলা ভাষাকে সাহিত্যের মাত্রায় বুঝে নেওয়ার জন্যে সাহিত্য-ইতিহাস জানা প্রয়োজন। আদিযুগের শেষে মধ্যযুগ—মধ্যযুগের শেষে আধুনিক যুগ — এ যুগ ইতিহাসে সাহিত্যের রূপ বিবর্তিত পরিবর্তিত হয়েছে। যা ইতিবাচক তা সংরক্ষিত হয়েছে। বর্জিত হয়েছে— বিবর্তিত রূপ পরিগ্রহ করে টিকে গেছে অনেক অনেক শব্দ, শব্দোবদ্ধ ইত্যাদি।বাংলা ভাষার মাহাত্ম্য কি কমেছে? এ যুগের বাঙালিরা এখন ভাষা মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহার করছেন না আর তেমন। বাংলা গ্রন্থাদির পঠন পাঠনও কমেছে। তবে এ দৃষ্টান্ত দর্শিয়ে প্রমাণ করা যায় না- বাংলা ভাষার মানের নিম্নমাত্রিকতা। সাহিত্যবিচারে বাংলাভাষার মান মর্যাদা চিরকালীন। কাব্য—বাংলা সাহিত্যের এই অনন্য যে সম্পদ, তার রূপ-অবয়ব দেবার কাজে কাশীরাম দাসের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা।বীর সন্ন্যাসী, ভক্তশ্রেষ্ঠ সাধক, শিল্প আচার্য, বিজ্ঞানসাধক, দেশব্রতী শহীদ, বীর যোদ্ধা প্রত্যেককে সঠিক মাত্রান্বিতে জেনেবুঝে নেওয়ার জন্যেই প্রয়োজন প্রত্যেকের জীবনচরিতের পাঠ নেওয়ার। যুগমহান ‘ব্যক্তিপুরুষদের' সাধিত-সম্পাদিত কয়েকটি ঐতিহাসিক কর্মকীর্তির দৃষ্টান্তের উল্লেখ সাপেক্ষে তাঁদের পরিচিতি অধরাই থেকে যায়।প্রকাশনা জগতের বিশিষ্ট কর্ণধার পুরুষ শ্রী শংকরীভূষণ নায়ক তাঁর সমাজ মনস্কতায়—ইতিহাস মনস্কতায় বুঝেছেন যুগের বিশিষ্ট ব্যক্তিপুরুষদের জীবনচরিত—আজকের পাঠকদের ইতিহাসচেতন করে তোলার জন্যে প্রকাশনা প্রচারণার প্রয়োজন। সাহিত্য ইতিহাস তো কালক্রমিক ইতিহাসনির্ভর।তাই কাশীরাম দাস-এর জীবনচরিত লেখার নির্দেশ এলে এড়াতে পারিনি। নীতি-কর্তব্যবোধে মনে হয়েছে—যা তথ্য-উপাদান আছে—যতটুকু আছে, তা সম্বল করেই লিখি চরিতকথা। চরিতকথা মানে জীবনকাহিনি লিখতে গিয়ে এসে যাবে কাশীরাম দাসের অনন্য সৃষ্টিকাজ মহাভারত-এর কথা অবশ্যই।শেষ পর্যন্ত জীবনকথা রূপ পেয়েছে গ্রন্থাকারে। পাঠকজন এর পাঠ নিয়ে সমৃদ্ধ হলে আমার প্রয়াস সার্থক হবে। ভুলত্রুটি কিছু ঘটে থাকলে বিদগ্ধ পাঠকজনেরা তা সংশোধন করে বুঝে নেবেন। আর তা যথাবিধি জানালে পরবর্তীকালীন সংস্করণে শুদ্ধিকরণ করে নেওয়া যেতে পারে। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ধন্যবাদ জানিয়ে।গৌরী মিত্রWe have made it easy for you to find a PDF Ebooks without any digging. And by having access to our ebooks online or by storing it on your computer, you have convenient answers with কাশীরাম দাস - A biography on Kashiram Das. To get started finding কাশীরাম দাস - A biography on Kashiram Das, you are right to find our website which has a comprehensive collection of manuals listed. Our library is the biggest of these that have literally hundreds of thousands of different products represented.
Description: ৷৷ পূর্বকথা ৷৷'কাশীরাম দাস'- '-এ নামে পরিচিত এই মানুষটির জীবনের আদ্যোপান্ত কথা এ বাংলার জনমানুষের কাছে তেমন করে প্রচার পায়নি। তাঁর জন্মস্থান – কর্মস্থান কোথায় ছিল—বিষয়টা তেমন স্পষ্ট নয়। বাংলা ভাষা-সাহিত্যের বিশেষজ্ঞদের সবিশেষ বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা-সাপেক্ষে জানা গেছে কাশীরাম দাস-এর কালজয়ী সাহিত্যকীর্তি বাংলা ভাষায় লেখা মহাভারতের রচনাকাল। তবে তা নির্দিষ্ট সন-তারিখের মাত্রান্বিতে নয়। আর এই বিশেষজ্ঞজনেরা যেমন তেমনই সাধারণ পাঠকজন কাশীদাসী মহাভারত-এর পঠন-পাঠনকালে জেনেছেন কাশীদাস-এর কয়েকজন বংশপুরুষের নাম। জেনেছেন তাঁর জন্মস্থানের নামও। তবে সেসবের উল্লেখ ঘটেছে কাশীদাসী মহাভারতের কিছু শ্লোক তথা ভণিতা অংশে। সেসবই সূত্র তথা উৎস।এটাই কথা যে—এ সব সূত্র সমন্বিত করে একজন ব্যক্তিমানুষের সমগ্র জীবনের কাহিনি জানা যায় না। আর তা জানা যায়ও নি। তবে এ কথাও সত্য যে—যা জানা গেছে—যতটুকু জানা তার সংরক্ষণ প্রয়োজন। প্রয়োজন তার প্রচারকাজের।এখনকার জনমানুষদের অনেকেই পড়েন না কাশীদাসী মহাভারত। এক কালে এই বাংলার ঘরে ঘরে থাকত একখানা কাশীদাসী মহাভারত। পাঠপর্ব চলত প্রার নিয়মিত। আর পাঠপর্বের শেষে সেটি রাখা হত এক শুদ্ধ পবিত্র স্থানে। কেউ কেউ গ্রন্থটি রাখতেন তাঁর আরাধ্য দেববিগ্রহের সিংহাসনে। তবে এ সবের মধ্যে দিয়ে কাশীরাম দাসের ব্যক্তিগত জীবনকথা জানা যায়নি। জানার চেষ্টায় যুগবিশিষ্ট ভাষাবিদ্-সাহিত্য ইতিহাসবিদরা অবশ্যই কমবেশি তৎপর হয়েছেন। তবে তা তাঁর জীবনকথা কি? জীবনকথার চেয়েও অনেক অনেক বেশি তৎপরতা দেখা গেছে কাশীদাসী মহাভারতের সাহিত্যমূল্য যাচাই করে জেনেবুঝে নেওয়ার কাজে।বাংলা ভাষাকে সাহিত্যের মাত্রায় বুঝে নেওয়ার জন্যে সাহিত্য-ইতিহাস জানা প্রয়োজন। আদিযুগের শেষে মধ্যযুগ—মধ্যযুগের শেষে আধুনিক যুগ — এ যুগ ইতিহাসে সাহিত্যের রূপ বিবর্তিত পরিবর্তিত হয়েছে। যা ইতিবাচক তা সংরক্ষিত হয়েছে। বর্জিত হয়েছে— বিবর্তিত রূপ পরিগ্রহ করে টিকে গেছে অনেক অনেক শব্দ, শব্দোবদ্ধ ইত্যাদি।বাংলা ভাষার মাহাত্ম্য কি কমেছে? এ যুগের বাঙালিরা এখন ভাষা মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহার করছেন না আর তেমন। বাংলা গ্রন্থাদির পঠন পাঠনও কমেছে। তবে এ দৃষ্টান্ত দর্শিয়ে প্রমাণ করা যায় না- বাংলা ভাষার মানের নিম্নমাত্রিকতা। সাহিত্যবিচারে বাংলাভাষার মান মর্যাদা চিরকালীন। কাব্য—বাংলা সাহিত্যের এই অনন্য যে সম্পদ, তার রূপ-অবয়ব দেবার কাজে কাশীরাম দাসের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা।বীর সন্ন্যাসী, ভক্তশ্রেষ্ঠ সাধক, শিল্প আচার্য, বিজ্ঞানসাধক, দেশব্রতী শহীদ, বীর যোদ্ধা প্রত্যেককে সঠিক মাত্রান্বিতে জেনেবুঝে নেওয়ার জন্যেই প্রয়োজন প্রত্যেকের জীবনচরিতের পাঠ নেওয়ার। যুগমহান ‘ব্যক্তিপুরুষদের' সাধিত-সম্পাদিত কয়েকটি ঐতিহাসিক কর্মকীর্তির দৃষ্টান্তের উল্লেখ সাপেক্ষে তাঁদের পরিচিতি অধরাই থেকে যায়।প্রকাশনা জগতের বিশিষ্ট কর্ণধার পুরুষ শ্রী শংকরীভূষণ নায়ক তাঁর সমাজ মনস্কতায়—ইতিহাস মনস্কতায় বুঝেছেন যুগের বিশিষ্ট ব্যক্তিপুরুষদের জীবনচরিত—আজকের পাঠকদের ইতিহাসচেতন করে তোলার জন্যে প্রকাশনা প্রচারণার প্রয়োজন। সাহিত্য ইতিহাস তো কালক্রমিক ইতিহাসনির্ভর।তাই কাশীরাম দাস-এর জীবনচরিত লেখার নির্দেশ এলে এড়াতে পারিনি। নীতি-কর্তব্যবোধে মনে হয়েছে—যা তথ্য-উপাদান আছে—যতটুকু আছে, তা সম্বল করেই লিখি চরিতকথা। চরিতকথা মানে জীবনকাহিনি লিখতে গিয়ে এসে যাবে কাশীরাম দাসের অনন্য সৃষ্টিকাজ মহাভারত-এর কথা অবশ্যই।শেষ পর্যন্ত জীবনকথা রূপ পেয়েছে গ্রন্থাকারে। পাঠকজন এর পাঠ নিয়ে সমৃদ্ধ হলে আমার প্রয়াস সার্থক হবে। ভুলত্রুটি কিছু ঘটে থাকলে বিদগ্ধ পাঠকজনেরা তা সংশোধন করে বুঝে নেবেন। আর তা যথাবিধি জানালে পরবর্তীকালীন সংস্করণে শুদ্ধিকরণ করে নেওয়া যেতে পারে। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ধন্যবাদ জানিয়ে।গৌরী মিত্রWe have made it easy for you to find a PDF Ebooks without any digging. And by having access to our ebooks online or by storing it on your computer, you have convenient answers with কাশীরাম দাস - A biography on Kashiram Das. To get started finding কাশীরাম দাস - A biography on Kashiram Das, you are right to find our website which has a comprehensive collection of manuals listed. Our library is the biggest of these that have literally hundreds of thousands of different products represented.